উচ্চতর দাওয়াহ ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান বিভাগ

উচ্চতর দাওয়াহ ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান বিভাগ
১. দাওয়াহ ও আন্তধর্মীয় সংলাপ
মানুষ নিজের বংশ, জাতি, গোষ্ঠী, বর্ণ, দেশ বা শিক্ষা নিয়ে যেমন গৌরব বোধ থেকে অহঙ্কার ও অন্যকে ঘৃণার পর্যায়ে চলে যায়, ঠিক তেমনি নিজের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে অন্য ধর্ম ও তার অনুসারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা হানাহানিতে লিপ্ত হয়। ইসলাম তার অনুসারীদের নিজের ধর্মের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও ভালবাসার পাশাপাশি অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ধর্ম পালনের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান, সকল জাগতিক অধিকার প্রদান, অন্যধর্মের অনুসারীদের সাথে আলোচনা বিতর্কে সর্বোচ্চ উত্তম বাক্য ও আচরণ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে এবং অন্য ধর্মের পূজনীয় বা ভক্তির পাত্রদের প্রতি অশোভন মন্তব করতে নিষেধ করেছে। (সূরা-৬ আন‘আম ১০৮; সূরা-১৬ নাহল ১২৫; সূরা-১৭ ইসরা ৫৩; ২৯ আনকাবুত ৪৬; ৪১ ফুসসিলাত ৩৪)
ইসলামের দাওয়াহ ও ধর্মীয়সংলাপ পরস্পর সম্পর্কিত। কুরআন যেমন মুমিনদের দিক নির্দেশনা দিয়েছে, তেমনি অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের সাথেও সংলাপ করেছে এবং মুমিনদের সংলাপ শিক্ষা দিয়েছে। সাহাবীগণের যুগ থেকেই মুসলিম গবেষকগণ বিশ্বধর্ম অধ্যয়ন ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেছেন। ইসলামের প্রথম কয়েক শত বছরে আলিমগণ জ্ঞানের এ শাখায় অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করলে আমরা তথ্য উপস্থাপনায় বস্তুনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও কুরআন নির্দেশিত শালীনতা দেখতে পাই।
তাতার আক্রমনে বিক্ষত মুসলিম দেশগুলোর ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামুলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন তেমন গুরুত্ব পায় নি। বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে বিভিন্ন ধর্মের অধ্যয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম সমাজগুলোতে নাস্তিকতা, ধর্মহীনতা, ধর্মান্তর, বিশেষত খৃস্টান ধর্মপ্রচারকদের কর্মতৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত শালীনতা, প্রজ্ঞা ও যুক্তি নির্ভরতার ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর প্রথম প্রজন্মগুলোর গবেষকদের ধারায় দীনী দাওয়াতের পাশাপাশি তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞ দীন প্রচারক বা ‘দাঈ ইলাল্লাহ’ তৈরির জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট ‘দাওয়াহ ও তুলনামূলক ধর্মবিজ্ঞান’ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে।
২. পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা পদ্ধতি
উচ্চতর দাওয়াহ বিভাগে এক বছর মেয়াদী তাখাস্সুস বা উচ্চতর ডিপ্লোমা প্রদান করা হয়।
দাওয়াহ বিভাগের পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে মাদরাসা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় উভয় ধারার শিক্ষার্থীদের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দীনী দাওয়াতের জন্য মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতে পারদর্শিতা আবশ্যক। এজন্য এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে মাতৃভাষা, ইংরেজি, জাতীয় ইতিহাস ও বিশ্বের ইতিহাস অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরবীতে দুর্বলগণও যাতে এ বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উপকৃত হতে পারেন সেজন্য আরবী বিষয় কম রেখে অধিকাংশ বিষয় বাংলায়, পাঠ, অধ্যয়ন ও গবেষণার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাঠদান ও অধ্যয়ন ব্যবস্থা ছাড়াও প্রতি পর্বে ন্যুনতম চারটি করে বিশেষজ্ঞ আলোচনা ব্যবস্থা রাখ হয়েছে। ইতিহাস, সভ্যতা, বিশ্বায়ন, মুসলিম বিশ্ব, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও তুলনামূলক ধর্ম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকগণ আলোচনা ও আলোচনা-পত্র প্রদান করেন।
৩. ভর্তি বিষয়ক তথ্যাবলি
শাওয়াল মাসের ১০-১২ তারিখের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ১৩/১৪ তারিখের মধ্যে পাঠদান ও অধ্যয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস বা ফাযিল পরীক্ষায় উত্তীণ ছাত্রদের এ বিভাগে ভর্তি করা হয়। এছাড়া কলেজ, বিশ্ববিদ্যায়ে, বিশেষত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দাওয়াহ বিভাগের শর্তাবলি পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য খ-কালীন অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।
আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিবে এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি ফরমের সাথে জন্ম-সনদ, নাগরিক সনদ, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশংসাপত্র, নিজের বা অভিভাবকের ভোটার আই. ডি. কার্ডের কপি এবং দু’ কপি সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হবে।
এ বিভাগে শিক্ষার জন্য কোনো বেতন নেওয়া হয় না। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও শিক্ষা সবই আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বহন করে। জামিআর পরীক্ষায় বিশেষ মেধার স্বাক্ষর রাখলে তাকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। খ-কালীন শিক্ষার্থীদের খাওয়া খরচ বহন করতে হয়। ভর্তিচ্ছুক সকলকেই ভর্তির সময় নি¤েœর প্রদেয়গুলো প্রদান করতে হয়: ভর্তি ফি ১৫০০ টাকা, ফরম ও প্রস্পেক্টাস ১০০ টাকা, মোট ১৬০০ টাকা।
৪. শিক্ষাবর্ষ ও ছুটি
দাওয়াহ বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রমে ইসলামী চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শাওয়ালে শুরু ও শাবান মাসে শেষ হয়। শিক্ষাবর্ষ তিনটি পর্বে বিভক্ত:
প্রথম সাময়িক পরীক্ষা: সফর মাসের প্রথম সপ্তাহ
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা: জুমাদাল উলা মাসের প্রথম সপ্তাহ
বার্ষিক পরীক্ষা: শা’বান মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ
বিভাগের প্রয়োজনে পরীক্ষার তারিখ কিছু পরিবর্তণ করা হতে পারে।
প্রত্যেক পরীক্ষার পরে এক সপ্তাহ ছুটি, ঈদুল আযহার জন্য ১২/১৩ দিনের ছুটি।

اترك تعليقاً

لن يتم نشر عنوان بريدك الإلكتروني. الحقول الإلزامية مشار إليها بـ *