তাওহীদের ঈমান (১)

imagesতাওহীদের ঈমান (১)

আরকানুল ঈমান

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর অধ্যাপক, আল-হাদীস বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট
আরকানুল ঈমান
একজন মানুষকে মুমিন বলে গণ্য হতে কি কি বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে তা কুরআন কারীমে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাদীসেও তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইসলামের পরিভাষায় এগুলিকে ‘আরকানুল ঈমান’ বলা হয়।
মহান আল্লাহ বলেন:
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآَخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآَتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآَتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ
“পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে কোনো পূণ্য নেই। কিন্তু পুণ্য তার যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে আল্লাহে, পরকালে, মালাকগণে (ফিরিশতাগণে), গ্রন্থসমূহে এবং নবীগণে, এবং ধন সম্পদের প্রতি মনের টান থাকা সত্তে¡ও আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন-অনাথ, অভাবগ্রস্ত, পথিক, সাহায্যপ্রার্থনাকারিগণকে এবং দাসমুক্তির জন্য অর্থ প্রদান করে, এবং সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে, প্রতিশ্র“তি দিলে তা পূর্ণ করে এবং অর্থ-সংকটে, দুঃখ ক্লেশে ও সংগ্রাম-সংকটে ধৈর্য ধারণ করে। এরাই প্রকৃত সত্যপরায়ণ এবং এরাই মুত্তাকী।” সূরা (২) বাকারা: ১৭৭ আয়াত।
এখানে আল্লাহ তা‘আলা জানিয়েছেন যে, শুধু আনুষ্ঠানিকতার নাম ইসলাম নয়, প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতায় কোনো পূণ্য নেই। ইসলাম বিশ্বাস ও কর্মের সমন্বয়। এখানে আল্লাহ মুমিনের বিশ্বাসের মৌলিক পাঁচটি বিষয় এবং তার মৌলিক কর্ম ও চরিত্রের বর্ণনা দান করেছেন। অন্যত্র  আল্লাহ বলেন:
آَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ
“রাসূল তাঁর প্রতি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে ইমান এনেছেন এবং মুনিগণও। তারা সকলেই  আল্লাহে, তাঁর ফিরিশতাগণে, তাঁর গ্রন্থসমূহে এবং তাঁর রাসূলগণে ইমান আনয়ন করেছেন। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে তারতম্য করি না।” সূরা (২) বাকারা: ২৮৫ আয়াত।
এখানে ঈমানের স্তম্ভগুলির মধ্য থেকে ৪টি বিষয় উলে­খ করা হয়েছে। অন্য আয়াতে ৫টি বিষয়ের উলে­খ করে আল­াহ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا آَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآَخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالا بَعِيدًا
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল­াহে, তাঁর রাসূলে, তাঁর রাসূলের উপর যে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন তাতে এবং যে গ্রন্থ তিনি পূর্বে অবতীর্ণ করেছেন তাতে ঈমান আন। এবং কেউ  আল্লাহ , তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালকে অবিশ্বাস করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।” সূরা (৪) নিসা: ১৩৬ আয়াত।
এভাবে কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে উপরের বিষয়গুলি একত্রে বা পৃথকভাবে উলে­খ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসেও ঈমানের রুক্নগুলি উলে­খ করা হয়েছে। ঈমানের পরিচয় দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “(ঈমান এই যে,) তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহয়, তাঁর ফিরিশতাগণে, তাঁর পুস্তকসমূহে, তাঁর সাক্ষাতে, তাঁর রাসূলগণে এবং তুমি বিশ্বাস করবে শেষ পুনরুত্থানে এবং তুমি বিশ্বাস করবে তাকদীর বা নির্ধারণের সবকিছুতে।” বুখারী, আস-সহীহ ১/২৭, ৪/১৭৩৩; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৩৯, ৪০, ৪৭।
এই ঘটনারই বর্ণনা করেছেন উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) অন্য হাদীসে। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তথায় আসলেন। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ অত্যন্ত ধবধবে সাদা এবং মাথার চুলগুলো অত্যন্ত পরিপাটি ও কাল। …. তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করে বলেন: “ঈমান সম্পর্কে প্রশ্ন করে বলেন, ঈমান কী তা আমাকে বলুন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّه
“ঈমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস করবে আল­াহে, তাঁর ফিরিশতাগণে, তাঁর গ্রন্থসমূহে, তাঁর রাসূলগণে এবং পরকালে, এবং বিশ্বাস করবে আল­াহর পূর্ব নির্ধারণে (ভাগ্যে), তাঁর ভাল এবং মন্দে।” মুসলিম, আস-সহীহ ১/৩৫-৩৬।
এভাবে বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসের আলোকে আমরা জানতে পারি যে, ইসলামী ঈমানের বা ‘আল-আকীদাহ আল ইসলামিয়্যাহ’-র ছয়টি মৌলিক স্তম্ভ রয়েছে: (১) আল­াহর উপর ঈমান, (২) আল­াহর মালাকগণের (ফিরিশতাগণের) প্রতি ঈমান (৩) আল­াহর গ্রন্থসমূহের প্রতি ঈমান, (৪) আল্লাহরা রাসূলগণের উপর ঈমান, (৫) পুনরুত্থান, কিয়ামত, পরকাল বা আখিরাতের উপর ঈমান, এবং (৬) তাকদীর বা আল্লাহরা নির্ধারণ ও সিদ্ধান্তের উপর ঈমান। এ বিষয়গুলোকে আরকানে ঈমান, অর্থাৎ ঈমানের স্তম্ভসমূহ, ভিত্তিসমূহ বা মূলনীতিসমূহ বলা হয়।
আল্লাহরা প্রতি ঈমান
আল্লাহরা প্রতি ঈমানের অর্থ আল্লাহা একত্বে বা তাওহীদে বিশ্বাস করা। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর প্রতি ঈমানের বর্ণনা দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ- وفي رواية: شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وفي رواية ثالثة: أَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ، وفي أخرى: أَنْ يُعْبَدَ اللَّهُ وَيُكْفَرَ بِمَا دُونَهُ- وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ، وفي رواية: صيام رمضان والحج
“ইসলামকে পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, তা হলো: বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ বা উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্রাহর বান্দা ও রাসুল, (অন্য বর্ণনায়: একমাত্র আল্রাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ছাড়া যা কিছু (উপাস্য) আছে সবকিছুকে অবিশ্বাস করা), সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রামাদান মাসের সিয়াম (রোযা) পালন করা, বাইতুল­াহর হজ্জ আদায় করা।” বুখারী, আস-সহীহ, ১/১২, ৪/১৬৪১; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৪৫।
আনাস ইবনু মালিক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ
‘‘যে কোনো ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ বা উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তবে তাঁর জন্য আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম বা নিষিদ্ধ করে দেবেন।’’ বুখারী, আস-সহীহ, ১/১২, ৪/১৬৪১; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৪৫।
তাওহীদের অর্থ ও সংজ্ঞা
’তাওহীদ’ শব্দটি আরবী ‘ওয়াহাদা (وَحَدَ) ক্রিয়ামূল থেকে গৃহীত, যার অর্থ ‘এক হওয়া’, ‘একক হওয়া’ বা ‘অতুলনীয় হওয়া’ (to be alone, unique, singular, unmatched, without equal, incomparable)। তাওহীদ অর্থ ‘এক করা’, ‘এক বানানো’, ‘একত্রিত করা’, ‘একত্বের ঘোষণা দেওয়া’ বা ‘একত্বে বিশ্বাস করা’। তাওহীদের ব্যবহারিক অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করে কুরআন কারীমে ও হাদীস শরীফে অগণিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যেগুলি আমরা এ অধ্যায়ে আলোচনা করব। প্রথমেই আমরা পূর্ববর্তী হাদীসে উলি­খিত তাওহীদের পরিচিতি আলোচনা করব।
আমরা দেখেছি যে, উপরের হাদীসগুলিতে তাওহীদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: (لا إله إلا الله) “আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা উপাস্য নেই।” বিভিন্ন বর্ণনায় এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে: (وحده لا شريك له) “তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।” আমরা প্রথমে এ বাক্যটির বিভিন্ন শব্দের অর্থ বুঝার চেষ্টা করব।
আরবীতে (لا) শব্দের অর্থ হলো নেই, মোটেও নেই বা একেবারে নেই। এই বাক্যে শব্দটি (نفي الجنس) বা মোটেও নেই বা একেবারেই নেই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(إله) শব্দের অর্থ হলো “মাবুদ”, অর্থাৎ উপাস্য বা পূজ্য, যার কাছে মনের আকুতি পেশ করা হয়, প্রয়োজন মেটানোর জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। ৪র্থ হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ ভাষাবিধ ও অভিধান-প্রণেতা আবুল হুসাইন আহমদ ইবনু ফারিস (৩৯৫ হি) বলেন:
الهمزة واللام والهاء أصل واحد، وهو التعبد. فالإله الله تعالى، وسمي بذلك لأنه معبود
“হামযা, লাম ও হা=ইলাহ: ধাতুটির একটিই মূল অর্থ, তা হলো ইবাদত করা। আল­াহ ইলাহ কারণ তিনি মাবুদ বা ইবাদতকৃত।” ইবনু ফারিস, মু’জামু মাকাইসুল­ুগাহ ১/১২৭।
আরবী ভাষায় সকল পূজিত ব্যক্তি, বস্তু বা দ্রব্যকেই ‘ইলাহ’ বলা হয়। এজন্য সূর্যের আরেক নাম ‘ইলাহাহ’ (الإلاهة); কারণ কোনো কোনো স¤প্রদায় সূর্যের উপাসনা বা পূজা করত। ইবনু ফারিস, মু’জামু মাকাইসিল­ুগাহ ১/১২৭; রাগিব ইসপাহানী, আল-মুফরাদাত, পৃ. ২১।
মহান আল­াহ বলেন:
وَقَالَ الْمَلأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآَلِهَتَكَ
“ফিরাউন স¤প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, আপনি কি মূসাকে এবং তার স¤প্রদায়কে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে এবং আপনার উপাস্যদেরকে বর্জন করতে দিবেন?” সূরা (৭) আ’রাফ: ১২৭ আয়াত।

ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এখানে ‘আলিহাতাকা (آلِهَتَكَ) স্থলে ‘ইলাহাতাকা’ (إلاهَتَك) পড়তেন। ‘ইলাহাত’ অর্থ ইবাদত, অর্থাৎ আপনি কি তাদেরকে আপনাকে এবং আপনার ইবাদত করা বর্জন করতে দিবেন?” তাবারী, তাফসীর (জামিউল বায়ান) ১/৫৪।
এভাবে আমরা দেখছি যে, (ইলাহাহ্) শব্দটি আরবীতে (ইবাদাহ্) শব্দের সমার্থক। ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব ১৩/৪৬৮-৪৬৯।
এই ‘ইবাদাত’ বা ‘ইবাদাহ’ (العبادة) শব্দের অর্থ আমরা বাংলায় সাধারণভাবে উপাসনা বা পূজা বলতে পারি। তবে ইসলামের পরিভাষায় ‘ইবাদাত’ অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবহ এবং এর বিভিন্ন প্রকার ও স্তর রয়েছে। পরবর্তী অনুচ্ছেদে আমরা এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করব। আমরা আমাদের আলোচনায় সাধারণভাবে উপাসনা, পূজা, ইত্যাদি শব্দের পরিবর্তে ‘ইবাদাত’ ব্যবহার করব, যেন আমরা এই ইসলামী গুরুত্বপূর্ন শব্দটির সকল অর্থ ও ব্যবহার ভালভাবে বুঝতে পারি।
(إلا) শব্দের অর্থ ঃ ব্যতীত, ছাড়া বা ভিন্ন।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে, (لا إله إلا الله) বাক্যটির অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই”। অর্থাৎ যদিও আল­াহ ছাড়া অন্য অনেক কিছুকেই ইবাদত, উপাসনা, পূজা বা আরাধনা করা হয়, তবে সত্যিকারভাবে ইবাদত করার যোগ্য বা মাবুদ হওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারোরই নেই। আল্লাহই সকল প্রকার ইবাদাতের তিনিই একমাত্র অধিকারী। ইসলামের পরিভাষায় ইবাদাত বলা হয় এমন সব কিছই একমাত্র তাঁর জন্য।
বিভিন্ন হাদীসে এই বাক্যের সাথে যোগ করা হয়েছে: (وحده لا شريك له)। আমরা দেখেছি যে, আরবীতে (وَحَدَ) ক্রিয়াপদটির অর্থ: এক হওয়া বা অতুলনীয় হওয়া।
(لا) শব্দটি মোটেও নেই বা কিছুই নেই অর্থ প্রকাশ করছে।
(شريك) অর্থ অংশীদার বা সহযোগী। শব্দটি আরবী থেকে বাংলায় প্রবেশ করেছে এবং ‘অংশীদার’ অর্থে ‘শরিক’ এখন বাংলা ভাষায় অতি পরিচিত শব্দ। আরবীতে র্শিক (شِرْك) অর্থ অংশীদার হওয়া (to share, participate, be partner, associate)। ইশরাক (إشراك) ও তাশ্রীক (تَشْرِيك) অর্থ অংশীদার করা বা বানানো। সাধারণভাবে ‘র্শিক’ শব্দটিকেও আরবীতে ‘অংশীদার করা’ বা ‘সহযোগী বানানো’ অর্থে ব্যবহার করা হয়। আল-ফাইয়ূমী, আল-মিসবাহুল মুনীর, পৃ. ৩১০।
(له) অর্থ ‘তাঁর’ বা ‘তাঁর জন্য’।
এভাবে দেখছি যে, তাওহীদের ঘোষণা বা সাক্ষ্যের এই অংশের অর্থ: মহান আল্লাহ একক ও অতুলনীয়, তাঁর কোনো অংশীদার বা সহযোগী নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *